Wednesday, December 29, 2010

এবার আরব সাগরে ছিন্তাই হলো দেশে তৈরী জাহাজ

আরব সাগরে এবার বাংলাদেশের রপ্তানি করা একটি জাহাজ সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়েছে। জার্মানির পতাকাবাহী ‘এমভি ইএমএস রিভার’ নামের জাহাজটি গত ২৬ নভেম্বর বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যায় আমদানিকারক গ্রোনা শিপিং কোম্পানি। ইএমএস রিভারসহ গত ২৪ দিনে আরব সাগরে ছয়টি জাহাজ সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ বাংলাদেশি মালিকের এবং অন্যটিতে সরকারের ৪৪ কোটি টাকার সার ছিল।
আরব সাগরে প্রায়ই ছিনতাই-ডাকাতির ঘটনায় জাহাজের আন্তর্জাতিক এই রুটটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে নাবিকদের জীবন। আরব সাগরে ঘন ঘন ছিনতাইয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সামুদ্রিক যোগাযোগ এই রুটে হয়।

কুয়ালালামপুরভিত্তিক জলদস্যুতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ব্যুরো (আইএমবি) গতকাল বুধবার তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানায়, এ বছর বিশ্বে ৫১টি জাহাজ জলদস্যুদের কবলে পড়েছে। এর মধ্যে ৯২ শতাংশ অর্থাৎ ৪৭টি জাহাজ ছিনতাই করেছে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। তবে বেশির ভাগ জাহাজ আরব সাগরে ছিনতাই হয়েছে। ছিনতাই হওয়া ২৬টি জাহাজ এখনো সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবজায় আছে। জলদস্যুরা এ সময়ে আর্থিক দুরবস্থায় থাকার কারণে ছিনতাই বেশি করছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের উপসংরক্ষক ক্যাপ্টেন নাজমুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ইউরোপ ও লোহিত সাগরের কাছাকাছি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে কোনো জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে হলে আরব সাগর অতিক্রম করতে হয়। এসব দেশ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা-যাওয়ার বিকল্প পথ থাকলেও তা ব্যয়বহুল।
বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন ফয়সাল আজিম বলেন, ‘আরব সাগরে জলদস্যুদের আক্রমণের কারণে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের পাশাপাশি নাবিকেরা পড়েছেন ঝুঁকির মুখে। এতে নাবিকদের থেকে আসা বৈদেশিক আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার ছিনতাই হওয়া জাহাজ এমভি ইএমএস রিভার চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডে তৈরি হয়েছিল। পরে জার্মানির গ্রোনা শিপিং কোম্পানি ৮০ কোটি টাকায় এটি কিনে নেয়। জামানির ওই কোম্পানি অন্য একটি কোম্পানিকে জাহাজটি ভাড়া দিয়ে ওই সমুদ্রপথে পরিচালনা করছিল।
ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘আরব সাগর এখন জলদস্যুদের বড় ফাঁদ। এ এলাকায় জলদস্যুদের আক্রমণ খুব বেড়ে যাওয়ায় জাহাজব্যবসা ও পণ্য পরিবহনে ঝুঁকি বাড়ছে। গত মঙ্গলবার ছিনতাই হওয়া এমভি ইএমএস রিভার জাহাজটি গত ২৬ নভেম্বর আমরা রপ্তানি করেছিলাম। নিজেদের তৈরি জাহাজ ছিনতাই হওয়ায় খুব খারাপ লাগছে।’
সূত্রমতে, জ্বালানি তেলবাহী এই জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবলালি বন্দর থেকে গ্রিসের দিকে যাওয়ার পথে ওমানের সালাহ বন্দরের কাছে জলদস্যুদের কবলে পড়ে। এ জাহাজে আটজন নাবিক আছেন। তাঁদের একজন ফিলিপাইন এবং সাতজন রোমানিয়ার নাগরিক।
জানা গেছে, ইএমএস রভারের আগে বাংলাদেশি জাহাজ ‘এমভি জাহান মণি’ আরব সাগরের ভারতীয় উপকূলে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়েছে গত ৫ ডিসেম্বর। জাহাজে ২৬ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন। প্রায় ২৫ দিন ধরে তাঁরা জলদস্যুদের কাছে জিম্মি। এঁদের মুক্তির জন্য জলদস্যুরা ৯০ লাখ মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করেছে। কিন্তু এ নিয়ে এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।
জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর সোমালিয়ার জলদস্যুরা এমভি থর নেক্সাস, ২০ ডিসেম্বর এমভি ওরনা, ১৭ ডিসেম্বর এমভি রেনুয়ার ও ১৬ ডিসেম্বর এমএসসি পানামা ছিনতাই করে। এ ছয়টি জাহাজের মধ্যে দুটি ছিনতাইয়ের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশ। এর একটি হচ্ছে জাহান মণি এবং অন্যটি সরকারের আমদানি করা ৪৪ কোটি টাকার সারবাহী থর নেক্সাস।

No comments:

Post a Comment