Wednesday, December 29, 2010

বাংলাদেশের কৃতিত্ত্ব তথা সোনার ছেলেদের জয়

বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. আনিসুর রহমানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলছে তোলপাড়। বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারপোর্টসহ নিরাপত্তা এলাকাগুলোতে যখন দেহ তল্লাশি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তখন তিনি আবিষ্কার করেছেন একটি বিস্ময়কর প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে যে কোনো মানুষের শরীরে বিস্ফোরকের কোনো উপাদান থাকলে তা এমনিতেই ধরা পড়বে।
যন্ত্রটির নাম স্পেকট্রোমিটার। এর আরো অনেক প্রয়োগ আছে। এরমধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে এটি একটি সফল যন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। পেনসেলভেনিয়ার হেরিসবার্গের বাসিন্দা ড. আনিসুর রহমান বলেন, বেশি বা খুবই অল্প বিস্ফোরক হলেও স্পেকট্রোমিটারের চোখ এড়ানো সম্ভব হবে না। এটা নিয়ে এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এ মেশিনে যেন কোনো ভুল সিগন্যাল এবং সন্ত্রাসীরা সিগন্যালকে লুকাতে না পারে সেজন্য বিশেষ ধরনের প্রযুক্তিগত কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে।

ড. আনিসুর রহমানের এ প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ইতিমধ্যেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আরো বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য কিছু নমুনা নিয়েছে ড. আনিসের কাছে। তারা সেগুলো এখন বিচার বিশ্লেষণ করছেন।
এনবিসি টেলিভিশন ড. আনিসের এ উদ্ভাবন নিয়ে ইতিমধ্যেই বড় ধরনের খবর প্রচার করেছে। পেনসিলভেনিয়ার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া ড. আনিসের এ আবিষ্কার বিষয়ে রিপোর্ট করতে ব্যাপক আগ্রহী বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ড. আনিসুর রহমান বলেন, বর্তমান সময়ে সিকিউরিটি এক বিরাট ইস্যু। এটাকে নিশ্চিত করতে গিয়ে সারা বিশ্বে বিলিয়ন্স অব ডলার খরচ করা হচ্ছে। মেটালিক কোনো বিস্ফোরক হলে সেটা যে কোনো জায়গাতেই ধরা পড়ে। কিন্তু এখন বিভিন্ন ক্যামিক্যাল পাউডারসহ রাসায়নিক বিস্ফোরকের প্রাদুর্ভাব ও ব্যবহার প্রতিদিনই বাড়ছে। গত খৃস্টমাসে ডেল্টা এয়ার লাইন্সে নাইজেরিয়ান একজন সন্ত্রাসীর আন্ডারওয়ারে পাউডারজাতীয় বিস্ফোরক পাওয়া গেছে। অল্পের জন্য ভয়াবহ বিস্ফোরণ থেকে বেঁচে গেছে শত শত যাত্রী। তারপর ইউরোপের বিভিন্ন এয়ারপোর্টে বিশেষ করে প্যাকেটের মধ্যে বিস্ফোরক পাউডার পাঠানোর সাম্প্রতিক ঘটনা সবাই জানেন। এ অবস্থায় কি করা যায় সেটা নিয়ে ব্যাপক গবেষণার পর আমরা একটি নতুন মেশিন আবিষ্কার করেছি।
তিনি বলেন, আমাদের এ যন্ত্রের দাম হচ্ছে প্রায় আড়াই লাখ ডলার। ভবিষ্যতে হয়তো এর দাম আরো কমবে। এ মেশিন একটি টেবিলে বসানো সম্ভব। ফলে যে কেউ কোনো ধরনের রসায়নিক বিস্ফোরক নিয়ে নিরাপত্তা এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না। এ মেশিনের সিগন্যালকে উপেক্ষা করার কোনো পথ নেই।
তিনি বলেন, নিউজার্সির একটি কোম্পানির বিনিময়ে এ প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই সৌদি আরব, ভারতসহ যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন আরো বিভিন্ন দেশ এ নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে রাশিয়া, ইরানসহ যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু তালিকায় নয়, এমন কোনো দেশের কাছে এ প্রযুক্তি বিক্রি করা যাবে না।
ড. আনিসুর রহমানের বাড়ি বাংলদেশের পাবনায়। দেশে অবস্থানকালে তিনি ছিলেন বিশিষ্ট আণবিক বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া ও ড. শমসের আলীর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহচর। বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনে তিনি ছিলেন সায়েন্টিফিক অফিসার।
 
সাহায্য করেছেন
করিম,টি.টিউন্স

No comments:

Post a Comment